আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস আজ

ইসলাম প্রচ্ছদ

নিখাদ ডেক্স : ‘আল কুদস’ বলতে বোঝায় ফিলিস্তিনের জেরুজালেমে পবিত্র ভূমিতে অবস্থিত পবিত্র মসজিদ, যা মসজিদুল আক্বসা বা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ নামে পরিচিত।
আজ ৭ই মে, ২৪ রমজান, আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস। পবিত্র নগরী ‘আল কুদস’ বা ‘বায়তুল মুকাদ্দাস’ হচ্ছে মক্কা মু‘আয্যামা ও মদীনা মুনাওয়ারার পরে ইসলামের তৃতীয় পবিত্র স্থান যেখানে অবস্থিত ইসলামের প্রথম কিবলা মসজিদুল আকসা।

হযরত রাসূলে আকরাম (সা.) মক্কার মসজিদুল হারাম, মদিনার মসজিদুন্নবী ও বায়তুল মুকাদ্দাসের মসজিদুল আক্বসার উদ্দেশে সফরকে বিশেষভাবে সওয়াবের কাজ বলে উল্লেখ করেছেন।

হযরত রাসূলে আকরাম (সা.)-এর হিজরতের আগে মক্কায় এবং হিজরতের পরে মদিনাতেও বেশ কিছুদিন মসজিদুল আক্বসাই ছিল মুসলমানদের কিবলা, পরে আল্লাহ্ তা‘আলার আদেশে মক্কা নগরীর কা‘বা ঘর কিবলা হিসেবে নির্ধারিত হয়। প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এই মসজিদুল আক্বসা থেকেই মিরাজে গমন করেছিলেন। তাই বায়তুল মুকাদ্দাস দুনিয়ার অন্য অনেক ভূখণ্ডের মত কোনও সাধারণ ভূখণ্ড নয়।

বায়তুল মুকাদ্দাস ও তার আশেপাশের এলাকা তথা সমগ্র ফিলিস্তিন ভূখণ্ড বহু নবী-রাসূলের (আ.) স্মৃতি বিজড়িত এবং কোরআন মাজিদে এ পুরো ভূখণ্ড-কে ‘র্আদে মুকাদ্দাস্’ বা ‘পবিত্র ভূমি’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সুতরাং মসজিদুল আক্বসা, বায়তুল মুকাদ্দাস ও ফিলিস্তিন- এ পবিত্র নামগুলো মুসলমানদের ঈমান ও সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ।

সুতরাং বোঝাই যাচ্ছে, আল কুদসের গুরুত্ব ধর্মপ্রাণ মানুষের কাছে কত বেশি। বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদী ও উপনিবেশবাদী চক্র সাম্প্রদায়িক ইহুদি জায়নিস্টদের ইন্ধন জুগিয়ে ফিলিস্তিনের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। তারা একের পর এক গণহত্যা চালিয়ে যাচ্ছে এবং মুসলমানদের বর্বরোচিতভাবে শহর ও গ্রাম থেকে উচ্ছেদ করছে। ফিলিস্তিন জবরদখলদার সাম্প্রদায়িক ইসরাইলের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিরা সংগ্রাম ও যুদ্ধ করে চলেছে। প্রতিবাদ করে আসছে বিশ্ববাসী।

ইরানে ইসলামি বিপ্লব বিজয়ী হওয়ার পর ইমাম খোমেনি ফিলিস্তিন ইস্যুকে কেন্দ্র করে পবিত্র ‘জুমাতুল বিদা’য় আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস পালনের আহ্বান জানান। মুসলমানদের প্রথম কিবলা পবিত্র বায়তুল মুকাদ্দাসকে দখল মুক্ত করার আন্দোলনের প্রতীকী দিন এটি। ১৯৬৭ সাল থেকে ইসরাইল বায়তুল মুকাদ্দাস দখল করে আছে।

ইমাম খোমেনির আহ্বানে ১৯৭৯ সালে ইরানে প্রথম শুরু হয়েছিল আন্তর্জাতিক আল কুদস দিবস। এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য হল ফিলিস্তিনি জনগণের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ। আজ বিশ্বের নানা দেশে দিবসটি পালিত হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *